পবিত্র কুরআন খতমের গুরুত্ব কতো বেশি জানেন?

0
241

ইসলাম ডেস্ক:

কুরআন কারীম মুমিনের জন্য রক্ষাকবচ! ভ্রান্তি ও বিচ্যুতি থেকে রক্ষা করে। আল্লাহ তা’আলা বলেন, “নিশ্চয়ই এই কুরআন সর্বাধিক সরল পথের সন্ধান দেয়।” (সূরা ইসরা: ৯)

কুরআনের বরকত লাভ করতে হলে, হিদায়াত লাভ করতে হলে, নিয়মিত তিলাওয়াত করতে হবে। বোঝার চেষ্টা করতে হবে। পাথরে পাথর ঘর্ষণে যেমন আগুন জ্বলে ওঠে, তদ্রূপ কলবের সাথে কুরআনের আয়াতের ঘর্ষণেও কলবে হেদায়াতের আলো জ্বলে উঠবে। জীবনে আল্লাহর মা’রেফাতের নূর জ্বলে উঠবে।

আমরা গল্প পড়ি। উপন্যাস পড়ি। কবিতা পড়ি। কিন্তু কুরআন পড়ি না। সুযোগ পেলেই যদি গল্পের বই নিয়ে বসতে পারি। ফেসবুক-ইন্টারনেট নিয়ে বসতে পারি, কুরআন নিয়েও কিছু সময় বসতে পারব না কেন? এখন তো খুবই সহজ। মোবাইলেই কুরআনুল কারীম পড়া যায়। আয়োজন করে কুরআন নিয়ে বসতে হয় না। যদিও সরাসরি কুরআন থেকে পড়ার ফজিলত অনেক বেশি।

নবীজি সা. নিয়মিত কুরআন খতম করতেন। এক খতম শেষ হলে আরেক খতম শুরু করতেন। এটা সুন্নাত।

তিনি বলেছেন, ‘অন্তত এক মাসে হলেও কুরআন খতম করো।’ (বুখারী)

হাদীসে বিশ দিনে, দশ দিনে, সাত দিনে, তিন দিনে, চল্লিশ দিনে খতম করার কথাও আছে। প্রত্যেকেই তার সামর্থ্য অনুযায়ী খতম করবেন। তবে সময় যতই লেগে যাক, চল্লিশ দিনের বেশি যেন না লাগে। কারণ হাদীসে সর্বোচ্চ চল্লিশ দিনের কথা আছে।

কুরআনুল কারিম বুঝে পড়ার ফজিলত অনেক। তবে না বুঝে হলেও শুধু তিলাওয়াতেরও ফজিলতও কম নয়। রাসুলুল্লাহ সা. বলেছেন, ‘কুরআন তিলাওয়াতে (না বুঝে হলেও) প্রতি হরফে দশ নেকী। আর প্রতিটি নেকী দশগুণ হয়ে আসে।’ (তিরমিযী)

প্রতিদিন কমপক্ষে এক পারা পড়া কঠিন কিছু নয়। নিজে পড়তে না পারলে, অন্তত ত্রিশ মিনিট সময় বরাদ্দ করে, একজন কারী সাহেবের মুখ থেকেও শুনে নিতে পারি। রেকর্ড শুনলে নিজে পড়া বা সরাসরি শোনার মতো সওয়াব না হলেও কিছু সওয়াব ও বরকত এতেও রয়েছে।

একটানা সময় না হলে, কাজের ফাঁকে ফাঁকে শুনে বা পড়ে নেয়া যেতে পারে। প্রতি নামাজের আগে বা পরে চার পৃষ্ঠা বা সাধ্যানুযায়ী আরও বেশি শোনার বা পড়ার নিয়ম করে নেয়া যেতে পারে।

কুরআন হলো হিদায়াতের আধার। নিশ্চিতভাবে বলা যায়, কেউ নিয়মিত কুরআন খতম দিতে অভ্যস্ত হলে, ভ্রান্তি বা বিচ্যুতি তাকে গ্রাস করতে পারবে না। চব্বিশ ঘণ্টায় ‘ত্রিশটা মিনিট’ খুব বেশি কিছু তো নয়! এটা নিজের জানমালের নিরাপত্তার জন্য ব্যয় করছি বলেও ধরে নিতে পারি আমরা। আল্লাহও খুশি হবেন নবীজিও খুশি হবেন। ফলে দুনিয়া-আখেরাত উভয়টাই নিরাপদ হয়ে যাবে।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here