প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে অভিভাবকদের ভূমিকাই জরুরি

0
176

শ্রীপুর বার্তা ডেস্ক:

প্রশ্ন ফাঁস রোধে যেমন প্রয়োজন সরকারের সদিচ্ছা তেমনি অভিভাবকদের উচিত সন্তানদের নৈতিকতার শিক্ষা প্রদান। সরকারের গৃহীত নানামুখী পদক্ষেপ সফলতার মুখ দেখতে পাবেনা যতদিন অভিভাবক হিসেবে আমরা আমাদের সন্তানদের অনৈতিক পথ পরিহার করতে উৎসাহিত করবো।

এক সমীক্ষায় জানা যায়, অভিভাবকদের চাপের মুখেই শিক্ষার্থীরা বাধ্য হয় ফাঁস হওয়া প্রশ্নে পরীক্ষা দিতে। অনেক শিক্ষার্থীরাই অভিযোগ করে, পরীক্ষায় এ প্লাস না পেলে কিংবা ভাল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি হবার যোগ্যতা অর্জন করতে না পারলে অভিভাবক কর্তৃক নেমে আসতে পারে ভয়াবহ মানসিক নির্যাতন। তাই অভিভাবকদের মন জয় করতে পরীক্ষার আগে প্রশ্ন খুঁজতে ব্যস্ত হয়ে পরে অনেকে। আর অভিভাবকদের প্রশ্রয় ব্যাতিত কোন শিক্ষার্থীই ফাঁস হওয়া প্রশ্ন কেনার সামর্থ্য রাখেনা। কিন্তু এই বাস্তবতা কি চেয়েছিলাম আমরা?আমাদের সন্তানদের একটি সুশিক্ষিত মানুষ হিসেবে না গড়ে আমরা কেন শুধু পরীক্ষায় ভালো করানোর মাধ্যমে তাদের ভবিষ্যৎ কে অন্ধকারে ঠেলে দিচ্ছি?

আমরা কি ভুলে গেছি কবির সেই বিখ্যাত দুটি লাইন “গ্রন্থগত বিদ্যা আর পরহস্তে ধন, নহে বিদ্যা নহে ধন হলে প্রয়োজন” এর মানে? আমরা কি ভুলে গেছি রবীন্দ্রনাথ, কাজী নজরুল, টমাস আলভা এডিসন, বিল গেটস, জ্যাক মা এর মতো পৃথিবীর বিখ্যাত ব্যক্তিবর্গ প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার মাধ্যমে বিকশিত হয়নি?তাই আসুন আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে একটি আদর্শ ও ব্যক্তিত্বসম্পন্ন সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে ফাঁসকৃত প্রশ্ন পেয়ে পরীক্ষা দিতে নিরুৎসাহিত করি এবং তাদের উপর নিজেদের আশা আকাঙ্খার বোঝা না চাপিয়ে সুশিক্ষা অর্জনে উৎসাহি করি ।

অভিভাবকদের সচেতনতাই পারে প্রশ্নফাঁসের মতো ব্যাধি থেকে জাতিকে মুক্ত করতে

প্রশ্নফাঁসের ঘটনা বেড়ে চলার দায় নিতে হবে অভিভাবকদেরকেও,  এ কথা বলছেন খোদ অভিভাবকরাই।  প্রশ্ন কিনতে সন্তানদের টাকা দিয়ে যেমন উৎসাহিত করছেন আবার নিজেরাও বিভিন্ন মাধ্যম থেকে প্রশ্ন কিনে দিচ্ছেন সন্তানকে।এমন একজন অভিভাবককে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হলে প্রথমে অস্বীকার করেন। পরে তার ছবি দেখালে শুরু হয় হম্বিতম্বি। এমন অনৈতিক কাজে সন্তানদের কিছু কিছু অভিভাবকের সহযোগিতাই প্রশ্নফাঁসের ঘটনা চরম পর্যায়ে নিয়ে গেছে বলে মনে করেন অনেকে।

গত এসএসসি পরীক্ষার সময়ও রাজধানীর একটি পরীক্ষা কেন্দ্রের বাইরে দেখা গেল কয়েকজন অভিভাবকের ব্যস্ততা। প্রশ্নফাঁস চক্রের কাছ থেকে প্রশ্ন কিনে পরীক্ষার ঠিক আগ মুহূর্তে তা সন্তানকে দেখাচ্ছেন তারা।যত কার্যকর ব্যবস্থাই গ্রহণ করা হোক না কেন, অভিভাবকরা সচেতন না হলে কোনো ব্যবস্থাই কাজে আসবে না বলে মনে করেন মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শাহেদুল খবির চৌধুরী।

প্রশ্ন প্রণয়নের সঙ্গে জড়িতরা বলছেন, ফাঁস রোধের কোনো ব্যবস্থাই কার্যকর হবেনা, যতক্ষণ পর্যন্ত এর চাহিদা থাকছে। শুধু ভালো সিজিপিএর জন্য প্রশ্নফাঁসে উৎসাহ দিয়ে অভিভাবকরা নিজের সন্তানদের যে ক্ষতি করছেন তা কখনোই পূরণ হবার নয় বলে মনে করেন শিক্ষাবিদরা।এভাবে চলতে থাকলে বাংলাদেশের শিক্ষাখাত একদিন নিশ্চিত ভাবে অন্ধকার পথে চলে যাবে। প্রশ্নফাঁস একটি ব্যাধি, এটি প্রতিরোধ করতে হবে আমাদের সকলের একনিষ্ঠ প্রচেষ্টায়।প্রশ্নফাঁস রুখতে অভিভাবকদের ভূমিকা সবার থেকে বেশি জরুরি।

ফাঁস হওয়া প্রশ্নে পাস করা যায়, মানুষ হওয়া যায় না।দেশকে ভালোবাসলে এই সমস্যার সমাধানে সকলের এক হয়ে কাজ করতে হবে। অভিভাবকদের হতে হবে সচেতন। সন্তানদের এই পথ থকে সরিয়ে আনতে পারবেন তারাই। সন্তান এই অপরাধের সাথে জড়িত আছে কিনা সেটা অভিভাবকদের জানার কথা। তাই অভিভাবকরা সচেতন হলে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব।

 

 

 

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here