লাল পিঁপড়ার ডিম

0
44

জয়নুল আবেদীন স্বপন:

অমেরুদণ্ডী প্রাণীদের মধ্যে অতিক্ষুদ্র পতঙ্গ পিঁপড়া। পিঁপড়া সামাজিক, পরিশ্রমী ও চতুর প্রাণী। আমাদের দেশে খুদে পিঁপড়া, ডেঁয়ো পিঁপড়া, সুড়সুড়ে পিঁপড়া, বিষ পিঁপড়া, লাল পিঁপড়া ছাড়াও বহু প্রজাতির পিঁপড়া রয়েছে। একটু কম বিষাক্ত বড়ো আকৃতির লাল পিঁপড়ারা বন্য এবং দলবেঁধে গাছের মাথায় বাসা বানিয়ে থাকে। ভাওয়াল ও মধুপুরের গজারী বনে গাছের মাথায় এদের বাসা বেশি দেখা যায়। এ এলাকায় স্থানীয় নাম ‘গজারী কুত্তা’। অনেকে ‘রামকুত্তা’ বলেও ডাকে। তাছাড়া সারা দেশে আম, লিচু, মেহগিনি গাছসহ অনেক গাছেই লাল পিঁপড়ার বাসা চোখে পড়ে। ওখানেই জীবনচক্রের ধাপগুলো সম্পূর্ণ করে।

বিচিত্র এদের জীবন। দলবদ্ধভাবে রানির অধীনে বাসা তৈরির কাজ করে ওরা। গাছের মগডালে প্রথমে অনেকগুলো পাতা জোড়া দিয়ে বল আকৃতির বানায়। লালার সাহায্যে এক রকম আঠা তৈরি করে পাতা জোড়া লাগায়। শক্ত চোয়াল দিয়ে পাতা মুড়িয়ে গোল করার আগে ভেতরে আলাদা আলাদা কুঠুরি বানায়। কর্মী পিঁপড়ারা ভবিষ্যতের খাবার সংগ্রহ করে রাখে। গোল আকৃতির বাসা এত মজবুত হয় যে বৃষ্টির পানি পর্যন্ত ভেতরে ঢোকে না। বসন্তকালে একটি কলোনিতে বেশ কিছু পুরুষ ও রানি পিঁপড়া জন্ম নেয়। এই সময় উভয়ের ডানা গজায়। এক সময় বাইরে এসে বংশ বৃদ্ধির জন্য ঝাঁক বেঁধে উড়াল দেয়। মিলনের পর নতুন রানি ডিম পেড়ে পৃথক কলোনির সৃষ্টি করে। ডিম দেখতে চিকন সাদা মুড়ি বা ভাতের মতো দেখায়। বেশি ডিম পাওয়া যায় শীতের শেষে। মাছ ধরার টোপের জন্য লাল পিঁপড়ার ডিমের চাহিদা বেশি। লাল পিঁপড়ার ডিমের টোপ বড়ো মাছেরা সহজেই গেলে। আশ্বিন ও কার্তিক মাসে এই ডিমের চাহিদা বেশি।

গ্রামের অনেক বেকার মানুষ পিঁপড়ার ডিম সংগ্রহ করে জীবিকা নির্বাহ করে। তারা লম্বা বাঁশের মাথায় জাল বা ছাতা ঝুলিয়ে দূরদূরান্তে চলে যায়। বাঁশের মাথার আঘাতে বাসা ভেঙে দিলে ডিম জালে এসে পড়ে। বাসা ভেঙে ডিম ও বাচ্চা সংগ্রহ করে শিকারিরা। পুঁজি লাগে না বলেই অনেকে এ পেশায় আছে। প্রতি কেজি ডিম ৭০০ থেকে ১০০০ টাকায় বিক্রি হয়। ৬ থেকে ৮টি বাসা ভাঙলেই এক কেজি ডিম সংগ্রহ করা যায়। মাছের প্রিয় খাবারটি আগের মতো পাওয়া যায় না। শিকারিরা ডিম ও বাচ্চা সংগ্রহ করায় লাল পিঁপড়ার বংশবিস্তার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এভাবে জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ছে।

লেখক পরিচিতি:

বারতোপা, মাওনা, শ্রীপুর, গাজীপুর।

 

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here