শ্রীপুরে অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্টের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ

0
295
সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট ছাইদুল ইসলাম মোল্লা।

নিজস্ব প্রতিবেদক: গাজীপুরের শ্রীপুরে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত এক সার্জেন্টের বিরুদ্ধে দুই লাখ টাকার চাঁদাবাজির মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

উপজেলার মাওনা ইউনিয়নের বারতোপা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ ব্যাপারে সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট ছাইদুল ইসলাম মোল্লা লিখিত অভিযোগ করেছেন। এতে একই গ্রামের জসিম উদ্দিন মোল্লা ও মোকছেদ আলী মোল্লার ছেলে মেজবা উদ্দিন মোল্লাসহ ৯ জনকে অভিযুক্ত করা হয়।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্টের ফুফু আদরজান মাওনা ইউনিয়নের রাথুরা মৌজার এস.এ খতিয়ান ৭৬০,৭৯১, ৮২১ নং এস.এ দাগ ৫৩০, ৫৩১, ৫৩৬, ৫২২, আর.এস ১৬৬২, ১৬৬৩, ১৬৬৫ আর.এস ১৮৪৯, ১৮৯০, ১৮৫৪, ১৯০৪ নং দাগে ওয়ারিশ সূত্রে ১০৫.৫০ শতাংশ জমির মালিক ছিলেন আদরজান। পরবর্তীতে আদরজানের চাচাতো ভাই মোবারক গং ও ছফির উদ্দিন মোল্লাসহ ভাইদের নিকট ওয়ারিশ সূত্রে পাওয়া সবটুকু জমি বিক্রি করে নিঃস্বত্যবান হন আদরজান।

পৈত্রিক সূত্রে মালিক হয়ে দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখলে রয়েছেন ছাইদুল ইসলাম। ২৪ শতাংশ জমি পতিত থাকায় হঠাৎ করেই ওই জমির ওপর নজড় পড়ে স্থানীয় জসিম উদ্দিনের। ছাইদুল ইসলাম এর ভোগ দখলকৃত জমি জসিম উদ্দিন ভুয়া মালিক সেজে স্থানীয় ‘ইলিভেন ফ্রেন্ডস এসোসিয়েশন’ নামে একটি সংগঠনের কাছে বিক্রি করার উদ্দেশ্যে বায়না রেজিস্ট্রি করেন। পরবর্তীতে ওই সংগঠন জোরপূর্বক ছাইদুল ইসলামের জমির ওপর সাইনবোর্ড দিতে গেলে প্রকৃত মালিক পক্ষ বাধা দেয়।

এ ব্যাপারে অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট ছাইদুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, আমি একজন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা, আইনের প্রতি রয়েছে আমার পরম শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা। ২০১৭ সালে সেনাবাহিনীর সার্জেন্ট পদ থেকে অবসর গ্রহণ করেন। তিনি বলেন, আমাদের পৈত্রিক সম্পত্তি ২৪ শতাংশ (চালা) জমি জোরপূর্বক দখলে নিতে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল দীর্ঘদিন ধরে শক্রতা করে আসছে। সম্প্রতি অভিযুক্তরা দা, লাঠি নিয়ে জমি জবর দখল করতে আসলে আমি বাঁধা দেই। এসময় যেকোন মূল্যে জমি দখল ও মামলার ভয় দেখিয়ে ঘটনাস্থল থেকে চলে যান তারা। এরই সূত্র ধরে ২৫ সেপ্টেম্বর দুই লাখ টাকার চাঁদাবাজির অভিযোগ এনে আমার বিরুদ্ধে শ্রীপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। যা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট।

তিনি আরো বলেন, আমার ফুফু আদরজান ওয়ারিশ সূত্রে যতটুকু মালিক ছিলেন তা মোবারক গং এবং আমার বাবা মৃত ছফির উদ্দিন মোল্লা ও চাচাদের নিকট বিক্রি করে দিয়ে তিনি নিস্বত্যবান হয়ে যায়। বর্তমানে স্বার্থন্বেসী একটি মহল আদরজানের ছেলে জসিম উদ্দিনকে ভুল বুঝিয়ে আমার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করিয়েছেন।

ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাথমিক তদন্ত করেন শ্রীপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) নয়ন ভুঁইয়া। তিনি জানান, অভিযোগ পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট ছাইদুল ইসলাম দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছেন! এ কথার সত্যতা পাওয়া যায়নি।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here