বাংলাদেশের মুজিব সরকার ইতালিতে আলো ছড়াচ্ছে

0
481
মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভেনিসের আ.লীগ নেতা মুজিব সরকারসহ দলের নেতৃবৃন্দ।

মোশারফ হোসাইন তযু-নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রকৃতি, বৃক্ষ ও বিনোদনপ্রেমি একজন মানুষ। ছোটবেলা থেকেই তিনি ছিলেন খুবই চঞ্চল। বাংলদেশের প্রতি রয়েছে তাঁর দরদ ও ভালোবাসা। আওয়ামী রাজনৈতিক পরিবারে জন্ম। তার নাম মুজিবুর রহমান (মুজিব সরকার)। বাবা বিশিষ্ট সমাজ সেবক মো. আব্দুর রউফ সরকার দেশ স্বাধীন হবার পর গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার প্রহলাদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। সুনামের সাথে প্রায় পাঁচ বছর চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। আব্দুর রউফ সরকার জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শের একজন সৈনিক। মনে প্রাণে বঙ্গবন্ধুকে ভালোবাসেন। সংগ্রামের সময় মুজিব সরকারের জন্ম হওয়ায় বঙ্গবন্ধুর নামের সঙ্গে মিলিয়ে বাবা তাঁর নাম রেখেছেন মুজিব সরকার। মুজিব সরকারের দাদা ইব্রাহিম সরকার ওরফে (ইবু সরকার) মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয় ও সার্বিকভাবে সহযোগিতা করাই তৎকালীন দেশ বিরোধী সন্ত্রাসীরা বাংলাদেশ স্বাধীন হবার ১০দিন পর নিমর্মভাবে ইবু সরকারকে হত্যা করে। বাবার মুখে সেই ইতিহাসের বর্ণনা এখনো শুনেন মুজিব সরকার।

মুজিবুর রহমান (মুজিব সরকার) শ্রীপুর উপজেলার প্রহলাদপুর হাইস্কুল থেকে এসএসসি ও এইচএসসি পাশ করেন । পরবর্তীতে স্কলারশিপ নিয়ে ১৯৯৮ সালে ইউরোপের দেশ সুইজারল্যান্ড পাড়ি জমান মেধাবী ছাত্র মুজিব সরকার। স্নাতকোত্তর শেষ করে ইতালিতে যান। সেখানে গিয়ে বেসরকারী একটি প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘ সময় শ্রমিক হয়ে কাজ করেন তিনি। পরবর্তীতে নিজের মেধা, পরিশ্রম ও সততা এবং মানবতার সেবাই নিজেকে নিয়োজিত রাখার মনোবল নিয়ে ব্যবসার পাশাপাশি সক্রিয়ভাবে জড়িয়ে পড়েন নানা ধরনের সাংগঠনিক কাজেও। তিনি ইতালির আনকোনা জেলা আ.লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। তিনি ‘নিউ ওয়ার্ল্ড সার্ভিস’ (জাহাজ নির্মাণ)-এর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান এবং বাংলাদেশ সমিতি ভেনিস ইতালির সভাপতি ও বৃহত্তর ঢাকা এসোসিয়েশন ভেনিস ইতালির প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্বে রয়েছেন। কঠোর পরিশ্রম আর সততা দিয়ে ইউরোপের দেশ ইতালিতে নিজেকে একজন সফল ব্যবসায়ী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন মুজিব সরকার।

তার প্রতিষ্ঠিত ‘নিউ ওয়ার্ল্ড সার্ভিস’-এর শাখা রয়েছে ফ্রান্সেও। শাখা রয়েছে ইতালির ভেনিস, মারগোরা, আনকোনাসহ বিভিন্ন শহরে। শুন্য থেকে ব্যবসা শুরু করে বর্তমানে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের প্রায় হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে এই প্রতিষ্ঠানে। প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশকে লালন করেন মনে প্রাণে।

মহামান্য রাষ্ট্রপতির সঙ্গে মুজিব সরকার।

জানা যায়, মহামান্য রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ বাংলাদেশের মন্ত্রী, এমপি ও সরকারী আমলারা ইউরোপীয় দেশে গেলে সেখানে ছুটে যান মুজিব সরকার। অংশগ্রহণ করেন বিভিন্ন প্রোগ্রামে। মুজিব সরকার কর্মী ও শ্রমিকবান্ধন একজন মানুষ। তার প্রতিষ্ঠিত ‘নিউ ওয়ার্ল্ড সার্ভিস’ থেকে প্রতি বছরই শ্রমিকদের একটু বিনোদন দিতে ইতালিতে বনভোজনসহ বিভিন্ন বিনোদনমূলক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকেন। আ.লীগের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস, ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তজার্তিক মাতৃভাষা দিবস, ১৭ মার্চ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম দিবস, ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস, ১ মে শ্রমিক দিবস, ১৫ আগষ্ট জাতীয় শোক দিবস , ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস মুজিব সরকারের উদ্যোগে পালন করে থাকেন।

তিনি প্রবাসী বাংলাদেশিদের উন্নয়নে কাজ করে চলেছেন বিরামহীন। মুজিব সরকার বাংলাদেশ সফরে আসলে দলের নেতা-কর্মী ও বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গে নিয়ে প্রথমে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন ও মাজার জিয়ারত করে থাকেন। একজন সফল ব্যবসায়ী মুজিব সরকার ব্যবসা ও রাজনীতিতে ক্রমেই সামনের দিকে এগিয়ে চলেছেন। প্রবাসী বাংলাদেশিদের উন্নয়নে কাজ করে চলেছেন।

ইতালি প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটি ও ইউরোপীয় শিল্পপতিদের মধ্যে বিশেষ অবদান রাখায় পুরষ্কার লাভ করেন মুজিব সরকার।

সম্প্রতি ইতালি প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটি ও ইউরোপীয় শিল্পপতিদের মধ্যে বিশেষ অবদান রাখায় পুরষ্কার লাভ করেন মুজিব সরকার। যুক্তরাজ্য, স্পেন ও বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত বাংলা কাগজ পত্রিকা তাঁর কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ এই সম্মাননা প্রদান করেছে। মুজিব সরকারের নিজ গ্রাম প্রহলাদপুর ইউনিয়নে রয়েছে তার বিশেষ অবদান। এলাকার বিভিন্ন স্কুল, মাদ্রাসায় দিয়েছেন অনুদান। এলাকার অসহায়, সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের পাশে থেকে সার্বিভাবে বাড়িয়ে দেন সহযোগিতার হাত। স্কুল পড়–য়া শিক্ষার্থীদর নিয়ে শিক্ষা সফর থেকে শুরু করে বিভিন্ন ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে রয়েছে তার বিশেষ অবদান। এক মেয়ে ও এক ছেলের জনক মুজিব সরকার। তিনি ৬ ভাই ও ৬ বোনের মধ্যে ২য়। দুই সন্তান ও স্ত্রী নিয়ে বর্তমানে মুজিব সরকার বসবাস করছেন ইতালির ভেনিসে।


মুজিবুর রহমান (মুজিব সরকার) ইতালি থেকে এই প্রতিবেদককে বলেন, প্রথমেই ‘গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্বরণ করছি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। তিনি বলেন, ছোটবেলা থেকেই বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে বুকে লালন করেছি। এর পিছনে প্রথম কৃতিত্ব ছিল আমার বাবা আব্দুর রউফ সরকার। তিনি প্রবাসীদের রেমিট্যান্স সেবায় কাজে লাগাতে পারেন সেজন্য তিনি সবার সহযোগিতা ও দোয়া কামনা করেছেন।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here