বাজেটে কিডনি ও ক্যান্সার রোগীদের জন্য সুখবর

0
61

আগামী ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে কিডনি ও ক্যান্সার রোগীদের জন্য সুখবর দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। বৃহস্পতিবার বাজেট বক্তৃতায় তিনি প্রাণঘাতী এসব রোগের চিকিৎসা জনগণের হাতের নাগালে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগের কথা জানান।

অর্থমন্ত্রী জানান, প্রত্যেক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের পাশাপাশি সব জেলা সদর হাসপাতালে নেফ্রোলজি ইউনিট ও কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপন করা হবে। একই সঙ্গে বিভাগীয় শহরে সরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে পৃথক ক্যান্সার ইউনিট ও শিশু কার্ডিয়াক ইউনিট স্থাপন করা হবে। নবজাতকের চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণেরও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাদের জন্য ১০ জেলা সদর হাসপাতাল ও ৬১ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্পেশাল কেয়ার নিউবর্ন ইউনিট চালু করা হবে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণের পাশাপাশি হবিগঞ্জ, নীলফামারী, নেত্রকোনা, মাগুরা ও নওগাঁয় মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপন করা হবে।

ওষুধ খাতকে সম্ভাবনাময় আখ্যায়িত করে অর্থমন্ত্রী ক্যান্সারের ওষুধ তৈরির বেশকিছু উপকরণসহ আরও কয়েকটি প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ক্ষেত্রে শুল্ক রেয়াতি সুবিধার প্রস্তাব করেছেন। এ ছাড়া স্বল্পমূল্যে অসুস্থ দরিদ্র রোগীদের জন্য মেডিকেল গ্যাস সহজলভ্য করার লক্ষ্যে এসব পণ্যের ওপর আরোপিত কর ২০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করার প্রস্তাব করেন।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিকায়নের কথা উল্লেখ করে বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, এই হাসপাতালে হাজার শয্যার সুপার স্পেশালাইজড ওয়ার্ড নির্মাণ, ওয়ান পয়েন্ট চেকআপ সেন্টার, সান্ধ্যকালীন স্বাস্থ্যসেবা ও ক্যান্সার ভবন নির্মাণ করা হবে। একই সঙ্গে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশ্বমানের বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট ইউনিট ও রোগী সেবা সম্প্রসারণের জন্য ওপিডি ভবন-১ এবং ওপিডি ভবন-২ এর ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ করা হবে।

অটিস্টিক ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন নাগরিকদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে তাদের জন্য চিকিৎসা ও অন্যান্য সামাজিক সুবিধা নিশ্চিত করার কথা জানান অর্থমন্ত্রী। এসব ব্যক্তি যেসব কাজে পারদর্শী হবেন, তাদের সেসব কাজে প্রশিক্ষণ দিয়ে কর্মক্ষম করে তোলা হবে।

বাজেট বক্তৃতায় আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, মাতৃমৃত্যু হার কমানোর জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী তিন হাজার মিডওয়াইফ পদ সৃষ্টি করা হয়েছে। একই সঙ্গে নার্সিং শিক্ষা সম্প্রসারণে আগামী অর্থবছরে তিনটি নার্সিং কলেজ ও পাঁচটি নার্সিং বয়েজ হোস্টেল স্থাপন করা হবে।

স্বাস্থ্য খাতে গৃহীত উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী আগামী ২০১৯-২০ অর্থবছরে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ এবং স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবারকল্যাণ বিভাগের জন্য ২৫ হাজার ৭৩২ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করেন। এর মধ্যে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগে ১৯ হাজার ৯৪৫ কোটি টাকা এবং স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবারকল্যাণ বিভাগে পাঁচ হাজার ৭৮৮ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের পরিচালন ব্যয় ধরা হয়েছে দশ হাজার ৮ কোটি টাকা ও উন্নয়ন ব্যয় নয় হাজার ৯৩৭ কোটি টাকা। স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবারকল্যাণ বিভাগের পরিচালন ব্যয় তিন হাজার ৪৫৮ কোটি টাকা ও উন্নয়ন ব্যয় দুই হাজার ৩৩০ কোটি টাকা করার প্রস্তাব করেন মন্ত্রী। গত অর্থবছরে এর পরিমাণ ছিল ২২ হাজার ৩৩৬ কোটি টাকা। এই বরাদ্দ মোট জিডিপির ১ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ এবং মোট বাজেটের ৫ দশমিক ৬৩ শতাংশ। সত্র: সমকাল

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here