শ্রীপুরে ভুয়া মোবাইল সিম রেজিস্ট্রেশন চক্রের চার প্রতারক আটক

0
496
ভুয়া মোবাইল সিম রেজিস্ট্রেশন চক্রের আটক চার প্রতারক।

মোশারফ হোসাইন তযু-নিজস্ব প্রতিবেদক:

গাজীপুরের শ্রীপুরে প্রতারণার মাধ্যমে মোবাইল সিম রেজিস্ট্রেশন চক্রের চার সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ।

বুধবার ফরিপুর জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদেরকে আটক করেন শ্রীপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শহিদুল ইসলাম মোল্লা (বিপিএম)।

আটক চারজন হলো, ফরিদপুর জেলার নগরকান্দা থানার গয়েশপুর গ্রামের মাহমুদ শেখের ছেলে লালন শেখ (২৫), একই থানার লস্করদিয়া গ্রামের সোবাহান শেখের ছেলে ইমরান হোসেন (২১), ফরিদপুর জেলার কোতয়ালী থানার ভাটপাড়া গ্রামের ছালাম খানের ছেলে রাশেদ আহম্মেদ খান (২৪) ও ফরিদপুর জেলার নগরকান্দা থানার শসা গ্রামের এস্তেফা মাতব্বর ছেলে শাহীন মাতব্বর (২৭) ।

এসময় তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন ব্যক্তির নামে গোপনে বায়োমেট্রিক করা ৪০টি সীম সহ বায়োমেট্রিক করার ৩টি ট্যাব ৫টি মোবাইল ও স্কিন প্রিন্টার উদ্ধার করা হয়।

গোপনে যাদের নাম দিয়ে বায়োমেট্রিক করা হয়েছে এমন কয়েকজন ভুক্তভোগীর সাথে কথা বলে তাদের সম্পর্কে ভয়াবহ তথ্য পাওয়া যায়। নিজের নামে ৭টি সীম বায়োমেট্রিক করা ফরিদপুর জেলার কোতয়ালী থানার ভুক্তভোগী গৃহিনী তাহমিনা বেগম জানান, গত তিন মাস আগে দুইজন ছেলে এসে বললো, খালা সীম কিনবেন মাত্র ১০ টাকা। তখন আমার ভোটার আইডি কার্ড দিয়ে ফিংগার দিলাম। ৮-৯ বার আঙুলের ছাপ দেয়ার পরও তারা আমাকে জানায় হয়নি। আমি না দিতে চাইলে তারা বলে এবারই শেষ, দেন হবে। এমন করার পরও তারা আমার আইডি কার্ড ফিরিয়ে দিয়ে বলে আজ হবেনা।

ভুক্তভোগী গৃহিনী শেফালী জানান, আমাদের বাড়ীতে তারা সীম নিয়ে এসে বলে-আপা ১০ টাকায় সীম কিনবেন ? সাথে ৫০ টাকা ফ্রি। এ সময় আমার ভোটার আইডি কার্ড দিতে বলে তারা। পরে আমার আঙুলের চাপ নেয়া হয়। আমি ৫-৬ বার ছাপ দেয়ার পরও তারা আমাকে বলে, আপনারটা রেজিষ্টেশন হয়নি। আগামীকাল সীম দিয়ে যাবো। কিন্তু তারা আর আসেনি।

শ্রীপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শহিদুল ইসলাম মোল্লা বিপিএম জানান,ঘটনার শুরু একটি ট্রান্সপোর্ট কোম্পানীর লোডেড ট্রাক উধাও হওয়াকে কেন্দ্র করে। গত মার্চ মাসের ২৩ তারিখ শ্রীপুর উপজেলার এক্স সিরামিক কারখানা থেকে বিবাড়িয়া ট্রান্সপোর্টের একটি ট্রাক টাইলস বোঝাই করে খুলনার রিপা এন্টারপ্রাইজে যাচ্ছিল। নির্দিষ্ট সময়ে ট্রাক না পৌছায় ট্রান্সপোর্ট কোম্পানীগুলো একে অপরের সাথে যোগাযোগ করেন। পরে ট্রাক চালক ইমরান শেখকে ফোন দিলে তার। মোবাইলটি বন্ধ পাওয়া যায়। চালকের সহকারীকে ফোন দিলে তা অন্য একজন রিসিভ করেন। যোগাযোগের জন্য ট্রাকের মালিকের মোবাইলে ফোন দিলে সেটিও বন্ধ পাওয়া যায়। বিষয়টি নিয়ে তখন থানায় মামলা দায়ের হয়। এ ঘটনার সাথে টেলিকম সেবা দাতা প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন জড়িত বলেও জানান তিনি।

তিনি আরো জানান,মামলার প্রেক্ষিতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে আসামি ট্রাক চালক ইমরান শেখকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার কাছ থেকে একটি মোবাইল সেটসহ তার দেহ তল্লাশী করে আরো ৪টি বায়োমেট্রিক রেজিস্ট্রারড সিম উদ্ধার করা হয়। পরে তার কাছ থেকে তথ্য নিয়ে এ ঘটনায় জড়িত আরো তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার হওয়া আসামিদের স্বীকারোক্তিতে আরো জানা যায়, ইমরান, রাশেদ ও শাহীন গ্রামীন ফোন কোম্পানীর এস আর হিসাবে চাকুরী করেন। তারা লালন শেখ কে বায়োমেট্রিক করার জন্য বিভিন্ন সময়ে মোবাইল ফোনের সীম সাপ্লাই দিতো। গ্রেপ্তারের পর ২৩ মে বৃহস্পতিবার কোর্টে নিয়ে তাদের অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৭দিনের রিমান্ড চায় পুলিশ।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here