শিশু ছেলেকে বাঁচাতে সাংবাদিক বাবার আকুতি

0
279

মোশারফ হোসাইন তযু-নিজস্ব প্রতিবেদক: মরণব্যাধি ক্যান্সার আক্রান্ত তিন বছর সাত মাসের শিশু জিহাদুল ইসলাম। তার বাবা স্থানীয় ‘‘দৈনিক হুংকার’’ পত্রিকার সাংবাদিক। দুই বছর ধরে সন্তানের চিকিৎসার খরচ চালিয়ে তিনি সর্বশান্ত।

জিহাদুল ইসলাম শরীয়তপুর পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডের স্বর্ণঘোষ গ্রামের মো. ইয়াকুব বেপারী ও জান্নাতুন আক্তারের একমাত্র ছেলে।

জিহাদুলের বাবা ইয়াকুব বেপারী জানান, জিহাদুল ইসলাম জন্মগ্রহণের পর ইপিআই টিকাদান কার্ডের (শিশু) মাধ্যমে বিসিজি, পেন্টা (ডিপিটি, হেপ-বি, হিব), পিসিভি, ওপিভি, আইপিভি, এমআর (হাম ও রুবেলা) ও হাম (২য় ডোজ) টিকা গুলো দিতে যান শরীয়তপুর সদর উপজেলার চিতলিয়া ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামের টিকা কেন্দ্র (ছাত্তার হাওলাদারের বাড়ি)।

সেখানে ২০১৬ সালের ২০ ডিসেম্বর হাম (২য় ডোজ) শেষ টিকাটি ওই কেন্দ্রের এক স্বাস্থ্য সহকারী জিহাদুলের ডান রানে পুশ করার পর রান ফুলে যন্ত্রনা হতে থাকলে ফের কেন্দ্রে নিয়ে গেলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে নেয়ার পরামর্শ দেন স্বাস্থ্য সহকারী। পরে জিহাদুলকে শরীয়তপুর সিভিল সার্জন ডা. খলিলুর রহমান, শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. শেখ মোস্তফা খোকন, মেডিকেল অফিসার ডা. মিজানুর রহমান, ডা. শামীম আব্দুল্লাহ কে দেখান। তারা জিহাদুলকে ঢাকা শিশু হাসপাতলে দেখানোর জন্য পরামর্শ দেন। পরে জিহাদুলের বাবা ঢাকা শিশু হাসপাতাল, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ এবং পরে পঙ্গু হাসপাতালের চিকিৎসকদের দেখান। সেখানে জিহাদুলের রানে ক্যান্সার ধরা পরে। সর্বশেষ তাকে ধানমন্ডি ইবনেসিনা হাসপাতালে নিলে সেখানে বায়োপসি করায়। বায়োপসির করানোর পর চিকিৎসকরা বলেন, রানে অপারেশন করলে ক্যান্সার পুরো শরীরে ছড়িয়ে পড়বে। তাই বাংলাদেশের চিকিৎসকের পরামর্শে গত ১৩ জানুয়ারি জিহাদুলকে ভারতের ভ্যলুর সিএমসি হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ ডাক্তার  জিহাদুলের চিকিৎসা করেন।

চিকিৎসক জানান, জিহাদুলকে চিকিৎসা করাতে হলে ভারতে ১৫ মাস থাকতে হবে। এতে ডাক্তার খরচ ১০ লাখ টাকা । এতে ৬০ ভাগ ভালো হতে পারে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক।

ইয়াকুব বেপারী বলেন, জিহাদুলের চিকিৎসার জন্য প্রায় ১০ লাখ টাকা দরকার। কিন্তু এত টাকা কোথায় পাব? তাই ছেলের চিকিৎসার ব্যয় চালিয়ে যেতে পারছি না। এমতাবস্থায় সন্তানের চিকিৎসার জন্য সবার কাছে সাহায্য কামনা করছি।

জিহাদুলের মা জান্নাতুন আক্তার বলেন, টিকা দেয়ার কারণে জিহাদুলের রানে ক্যান্সার হয়েছে। যত দিন যাচ্ছে রান ফুলে যাচ্ছে। ছেলের রানসহ সারা শরীরে প্রচন্ড ব্যাথা। ব্যাথায় ছেলেটা আমার সারাক্ষণ কান্না করে। আমার ছেলের জন্য সবার কাছে দোয়া চাই।

শরীয়তপুর সদর উপজেলার চিতলিয়া ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের স্বাস্থ্য সহকারী মো. মোক্তার হাওলাদার বলেন, জিহাদুলকে আমি টিকা দিয়েছি। অনেক শিশুকেই টিকা দিয়ে থাকি। টিকার কারণে জিহাদুলের সমস্যা হয়নি। অন্যকোন কারনে হতে পারে। শরীয়তপুর সিভিল সার্জন ডা. খলিলুর রহমান বলেন, জিহাদুলকে নিয়ে আমার কাছে আসছিলো। আমি ওকে দেখেছি। কিন্তু টিকা থেকে সামান্য ক্ষত হতে পারে, ক্যান্সার হওয়ার কোন সম্ভাবনা নেই বললেন সিভিল সার্জন।

জেলা প্রশাসক কাজী আবু তাহের বলেন, জিহাদুলের ক্যান্সারের বিষয়টি আমি শুনলাম। জেলা প্রশাসন সব সময় অসহায়দের পাশে থাকে। আমরা জিহাদুলকে সহযোগিতা করবো।

জিহাদুল ইসলামের বিষয়ে কথা বলতে পারেন তার বাবা ইয়াকুব বেপারীর সঙ্গে। মোবাইল নাম্বার : ০১৯১৭- ৩৮৭০১০।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here