শ্রীপুরে প্রতিবন্ধীদের নিয়ে পিকনিক করল এমপির ভাই আকরাম

0
331

মোশারফ হোসাইন তযু-নিজস্ব প্রতিবেদক: কেউ দৃষ্টিহীন, কেউ ঠিকমতো হাঁটতে পারে না, কারও হাত নেই, কারও নেই পা, কেউ আবার শারিরীক প্রতিবন্ধী, শারীরিকভাবে পিছিয়ে পড়া শ্রীপুর উপজেলার প্রায় ৩০০ প্রতিবন্ধীদের একটু আনন্দ দিতে পিকনিক করল প্রহলাদপুর ইউনিয়নের দমদমা গ্রামের ইসমাইল বাগমারের ছেলে গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মুহাম্মদ ইকবাল হোসেন সবুজের বড় ভাই মো. আকরাম হোসেন বাদশা।

বুধবার (২০ মার্চ) সকালে গাজীপুরের ভাওয়ালগড় ইউনিয়নের সাহেববাড়ি রিসোর্টে পিকনিকের আয়োজন করা হয়। পিকনিকে প্রধান অতিথি হিসেবেই ছিলেন ৩০০ প্রতিবন্ধীসহ তাদের অভিভাবকরাও।

প্রতিবন্ধীদের সকাল সকাল গাড়ি পাঠিয়ে গাড়িতে করে আনার ব্যবস্থা করা হয়। খাবারের মেনুতেও কমতি রাখেননি আকরাম। তাদেরকে সকালের নাশতা হিসেবে পরোটা, ডিম, কলা ও হালুয়া খেতে দেওয়া হয়। নাশতা শেষ করে সকলে মিলে হই-হুল্লোড়, ঘোরাফেরা আর আনন্দ উল্লাসে মেতে উঠেন তারা। এসময় আকরাম হোসেন বাদশার স্ত্রী মনিরা সুলতানা মুনমুন ও কন্যা মিফতা হোসেন প্রতিবন্ধীদের সাথে আনন্দ করেন।

এর পর দুপুরে দেওয়া হয় পোলাওয়ের সঙ্গে গরু ও মুরগির মাংস, সঙ্গে সবজি সবই ছিল পাতে। পরিবেশন থেকে সকলের পাতে ঠিকঠাক পড়ছে কিনা তা দেখভাল ও নিজের হাতে প্রতিবন্ধীদের মাঝে খাবার পরিবেশন করেন আকরাম হোসেন বাদশা। পেট ভরে খেয়ে তৃপ্ত সকলেই। এবং সন্ধ্যায় কেকের সাথে মিষ্টি দেয়া হয় ।

দুপুরে খাবারের আগে সাহেববাড়ির অডিটরিয়ামে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন আকরাম হোসেন বাদশা, প্রহলাদপুর ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম সরকার, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও সাহেববাড়ি রিসোর্টের মালিক সালাউদ্দিন সরকার। এমন মানবিক উদ্যোগের জন্য বক্তারা আকরাম হোসেন বাদশাকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, এরকম উদ্যোগ একটু ভিন্নই।

প্রতিবন্ধীদের নিয়ে ব্যতিক্রমী আয়োজনের বিষয়ে আকরাম হোসেন বাদশা প্রতিবেদককে বলেন, আল্লাহ এদের এমনভাবে পাঠিয়েছেন যে এদের সাথে প্রতিদিন সাক্ষাৎ হয়ে উঠেনা। এরা কেমন আছে কি করছে অনেকেই তা জানেনা। সকলের মাঝে থেকেও এরা বদ্ধ ঘরে বা বাড়ির উঠান পর্যন্তই সীমাবদ্ধ থাকে। এটা আমাকে ভাবায়। এখন তো পিকনিকের সময়, সকলেই পরিবার নিয়ে একটা দিন কিছুটা সময় বাড়ির বাইরে অন্য কোথাও বনভোজন করে আনন্দ করে। এদেরও তো ইচ্ছা হয় বেড়াতে। আর এরাওতো আমাদেরই পরিবার, সেটা উপলব্ধি করেই আজকের এই আয়োজন। আমার স্ত্রীও এতে সহযোগিতা ও উৎসাহ দিয়েছে। দৃষ্টিহীন, বিকলাঙ্গ, হাঁটতে চলতে না পারা এইসব মানুষগুলোকে একটা দিন আনন্দ দিতে পেরে যেমন খুশি আমি তেমনই আনন্দিত ওরাও।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here