শ্রীপুরে জন্ডিস সিরাজীর সুনাম ধরে রাখতে চান রাজীব সিরাজী

0
564
ইজ্জতপুর সিরাজী ঔষধালয়ে রোগী দেখছেন রাজীব সিরাজী

মোশারফ হোসাইন তযু-নিজস্ব প্রতিবেদক: গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার রাজাবাড়ি ইউনিয়নের ইজ্জতপুর গ্রামে সিরাজী ঔষধালয়ে জন্ডিস রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিয়ে কুড়িঁয়েছে সুনাম। শুধু শ্রীপুরেই নয় দেশের বিভিন্ন জায়গার অসহায়, গরীব, দুখী মানুষের আশ্রয়স্থল নামে পরিচিত সিরাজী ঔষধালয়। এখানে জন্ডিস রোগী ছাড়াও বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত মানুষজন চিকিৎসা নিতে আসেন।

এখানে প্রতিদিন গড়ে ৫০/৬০ জন রোগী দেখে থাকেন জন্ডিসের জাদুকর প্রয়াত নুরুল ইসলাম সিরাজী ওরফে জন্ডিস সিরাজীর উত্তরাধিকারী সমাজ সেবক ইফতেখারুল ইসলাম রাজীব ওরফে রাজীব সিরাজী। তিনি তাঁর বাবার অস্পূর্ণ স্বপ্ন পূরণ করবার জন্যে নিরলস জন্ডিস রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিয়ে আসছেন। তার বাবা (জন্ডিস সিরাজী) অর্ধ শতাব্দীরও বেশি সময় মানুষের সেবা করে ২০১৭ সালের ২৭ ডিসেম্বর চলে যান না ফেরার দেশে।

জানা যায়, প্রয়াত নুরুল ইসলাম সিরাজী (জন্ডিস সিরাজী) শুধু মানুষের চোখ দেখে নয়, হাত শুঁকেই বলে দিতে পারতেন জন্ডিস হয়েছে কি না। কেউ আসতে না পারলে ফোনেই জেনে নিতে পারতেন কী রোগ হয়েছে। তার দেয়া ওষুধে লাখেরও অধিক মানুষ জন্ডিস, লিভার, সিরোসিস এইচ.বি.এস.এসহ কঠিন রোগ থেকে মুক্তি পেয়েছেন।

ইফতেখারুল ইসলাম রাজীব ওরফে রাজীব সিরাজী, নুরুল ইসলাম সিরাজীর প্রথম সন্তান। তিনি ১৯৭৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ইজ্জতপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৯৪ সালে এসএসসি, কারিগরী শিক্ষা বোর্ড থেকে এইচএসসি, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ডিগ্রী এবং ২০০৯ সালে ঢাকা শান্তা মরিয়ম বিশ্ব বিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স করেন। এরই ফাঁকে বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ থেকে ডিএইচএমএস ডিগ্রী অর্জন করে উত্তরাধিকার সূত্রে বাবার পেশার হাল ধরেন।

চিকিৎসা সেবা নিতে আসা গাজীপুরের কাপাসিয়ার মানিক মিয়ার স্ত্রী বিউটি আক্তারের সাথে কথা হয় তিনি বলেন, অনেক দিন ধরে রোগে ভোগছি, খাওয়া-দাওয়া করতে পারছিনা, সামনে খাবার দেখলেই বমি আসে, চোখ হলুদ হয়ে গেছে। স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে পরীক্ষা করেছি রোগ ধরা পড়ছে না। মানুষের কাছে শুনেছি এখান কার (সিরাজী ওষধালয়) ওষুধ খেয়ে বহু মানুষ ভালো হয়েছে। এখানে আসার পর আমার চোখ দেখেই এখানকার চিকিৎসক রাজীব সিরাজী বলে দিলেন আমার জন্ডিস হয়েছে। ওষুধও দিলেন অল্প টাকায়।

ময়মনসিংহের গফরগাঁও থেকে আসা রবিউল ইসলামের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, আজ দিয়ে এখানে (সিরাজী ওষধালয়) দুইবার আসলাম। প্রথমবার জন্ডিস হয়ে দীর্ঘদিন বিছানায় পড়ে ছিলাম। এখান থেকে ওষুধ নিয়ে মাত্র ১ সপ্তাহ সেবন করার পর পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠি। এর ৩ বছর পর আবারও জন্ডিস হয়েছে । সুস্থ হওয়ার বিশ্বাসে আবারও এখানে আসা।

ঢাকা যাত্রাবাড়ীর রুবেল মিয়ার স্ত্রী লাকী বলেন, আমি দীর্ঘদিন যাবৎ জন্ডিস রোগে ভোগছিলাম। এখানে এসে বিস্তারিত বলার পর আমাকে কিছু ওষুধ দেন, তা খেয়ে আমি এখন সম্পূর্ণ সুস্থ্য আছি।

ইফতেখারুল ইসলাম রাজীব (রাজীব সিরাজী) বলেন, চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায়, জন্ডিস কোন রোগ নয়, এটি রোগের উপসর্গ মাত্র। রক্তে পিত্তরস বা বিলিরুবিনের মাত্রা বেড়ে জন্ডিসের শুরু হয়। জন্ডিস প্রধানত এবিসি ডেল্টাই ভাইরাসের জন্য হয়ে থাকে। বেশির ভাগ ডাক্তাররা বলেন, জন্ডিসের কোন ওষুধ নেই। সম্পূর্ণ বিশ্রাম জন্ডিস নিরাময়ের একমাত্র উপায়। রাজীব সিরাজী এই মতের সাথে প্রায় একমত হলেও তিনি তাদের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ফসল প্রকৃতির গাছগাছরার নির্যাস থেকে তৈরি করা ওষুধ রোগীদের দেন।

তিনি বলেন, আমার বাবা নুরুল ইসলাম সিরাজী (জন্ডিস সিরাজী) আদর্শ একজন মানুষ এবং আদর্শ এজন সমাজ সেবক ছিলেন। তাঁর যে মানসিকতা, মানব কল্যাণের ধরণ, দেশপ্রেম এবং ধর্মকর্ম পালনে যে আন্তরিকতা ছিলেন তা ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না। তিনি মানুষকে নিরলস চিকিৎসা সেবা দিয়ে গেছেন। আমাকেও তিনি তার মতো করে গড়ে তোলার চেষ্টা করেছেন। আমি বাবার কাছ থেকেই শিখেছি কীভাবে মানুষকে সেবা করতে হয়, ভালোবাসতে হয়, উৎসর্গ করতে হয়। তিনি পৃথিবী ছেড়ে চলে গেলেও রয়েছে তার আদর্শ। আমার বাবা চিকিৎসা সেবায় যে সুনাম, ভালোবাসা রেখে গেছেন তা ধরে রাখবো ইনশাআল্লাহ।

উল্লেখ্য: প্রতি শুক্র, শনি, রবি, সোম, মঙ্গল ও বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত ইজ্জতপুর সিরাজীর নিজ বাড়িতে এবং প্রতি বুধবার দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভালুকায় চেম্বার করেন রাজীব সিরাজী।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here