শিশুদের নিজস্ব একটি জগৎ আছে

0
144

জয়নুল আবেদীন স্বপন :
শিশুদের নিজস্ব একটি জগৎ আছে। সেখানে শিশুরা আনন্দের মধ্যে থাকতে চায়। শিশুদের বিনোদন শিক্ষামূলক হতে হবে। শিশুর মানসিক ও শারীরিক বিকাশের জন্য অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে।
শিশুদের উপযোগী সাহিত্য,চলচ্চিত্র ,ছবিআঁকা,গান,নাচ,ভ্রমন ইত্যাদি সহজলভ্য করতে পারলেই শিশুরা আনন্দ ও শিক্ষা উভয়-ই পাবে।
সাংস্কৃতিক ও নৈতিক মান উন্নয়ন ছাড়া শিশুদের শরীর ও মনের পরিপূর্ণ বিকাশ সম্ভব নয়। শিশুর হাসি খুশি ,রুচি বা পছন্দের দিকে খেয়াল রেখে শিশুদের সময়কে সুন্দরভাবে সাজানো প্রয়োজন। শিশুদের কল্পনা এলোমেলো হলেও বিচিত্র ও নতুন কিছুকে জানার আগ্রহ তার সব সময়ই থাকে। বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রসার ঘটানোর জন্য বাস্তবমূখী শিক্ষা শিশুকে দিতে হবে।
বর্তমানে শিশুরা আবদ্ধ হয়ে পড়েছে টেলিভিশন, কম্পিউটার ও ইন্টারনেটে। এতে শিশুরা দিন দিন দুর্বল হয়ে পড়ছে। একনাগারে মোবাইল কিংবা টেলিভিশন দেখে শিশুরা অলস হয়ে পড়ছে। এই ধরনের আসক্তিতে জড়িয়ে শিশুরা ক্রমাগত স্বাস্থ্য সমস্যায় ভূগছে। আনন্দঘন পরিবেশে খেলার মাঠে খেলতে পারছেনা শিশুরা। শিশুদের নেই ব্যায়াম করার সুযোগ। শিশুরা বন্দি হয়ে পড়েছে চার দেয়ালের মধ্যে। শিশুদের স্বাভাবিকভাবে বেড়ে ওঠার পরিবেশ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। মোবাইল গেমসে আসক্ত হয়ে চোখে কম দেখছে।

অন্যদিকে অতিরিক্ত পড়ার চাপে শিশুরা মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। শিশুদের এমন কিছু শিখানো উচিত নয় যা তাদের কাছে বোঝা মনে হয়। যেমন, প্র্যাকটিস না করে প্রথমেই সাইকেল চালানো যায়না।

শিশুকে সুন্দর জীবনের স্বপ্ন দেখানো শিখাতে হবে। শিশুর মন বুঝেই তার পক্ষে কাজ করতে হবে। শিশুদেরও আছে অধিকার। তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করা যাবেনা। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদেরও সুযোগ দিতে হবে। সব শিশুর নিরাপত্তা দিতে হবে। খেলাধুলা ও বিনোদনের সুযোগ করে দিতে হবে। সুস্থ দেহ সুন্দর মন সৃষ্টি করে। বর্তমানে বাবা মা সন্তানের পিছনে খুব একটা সময় দিতে চান না। একাকীত্ব ঘোচাতে শিশুরা বেছে নেয় ভিডিও গেমস্। সন্তানকে ভালবাসুন। শিশুরা যেন উশৃংখল না হয়। বাড়িতে ঘন ঘন কলহ শিশু মনে চাপ সৃষ্টি করে। শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে বেশিরভাগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নেই লাইব্রেরি। শিশুদের প্রতিটা প্রয়োজন মেটানো প্রয়োজন। কাঙ্খিত পরিবেশেই শিশুদের সুশৃঙ্খল ও সুন্দর জীবন তৈরী করা সম্ভব।

লেখক পরিচিতি:

জয়নুল আবেদীন স্বপন :

সিনিয়র শিক্ষক

বারতোপা আফসার উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়।

শ্রীপুর, গাজীপুর ।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here