মা-বাবাকে হারিয়ে এখন কাওরাইদের জনগণই আমার অভিভাবক : চেয়ারম্যান রফিক

0
1287
কাওরাইদ ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম মন্ডল। ছবি: শ্রীপুর বার্তা

মোশারফ হোসাইন তযু-নিজস্ব প্রতিবেদক: রফিকুল ইসলাম মন্ডল। গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার কাওরাইদ ইউনিয়নের টানা দুইবারের চেয়ারম্যান। শিশু কালেই যিনি বাবাকে হারিয়েছেন। ২০০২ সালে মাকে হারিয়েছেন। মা-বাবা হারা এ মানুষটির অভিভাবক এখন এলাকার সাধারণ জনগণ। কাওরাইদ ইউনিয়নের মানুষজন তাকে নেতা মনে করলেও তিনি নিজেকে জনগণের সেবক মনে করেন। এলাকার উন্নয়নের স্বার্থে নিজের জীবন পর্যন্ত উৎসর্গ করতে যিনি সবসময় প্রস্তুত।

এলাকার সাধারণ জনগণের সমর্থন নিয়ে ২০১১ সালে কাওরাইদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন । চেয়ারম্যান হিসেবে কাওরাইদ ইউনিয়নের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই এলাকার সার্বিক উন্নয়নমূলক কাজ বাস্তবায়ন করে খুব অল্প সময়ে সাধারণ মানুষের হৃদয়ের মণিকোঠায় স্থান করে নিতে পেরেছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শের এ সৈনিক। মানুষের ভালোবাসা ও সহযোগিতায় সফলতার সাথে প্রথমবারের মতো চেয়ারম্যানের দায়িত্ব শেষ করেন।

এলাকার সাধারণ মানুষের পাশে থেকে কাজ করার প্রত্যয় নিয়ে এবং জনগণের সাথে নিজেকে সম্পৃক্ত ও এলাকার উন্নয়ন করার লক্ষ্যে ২০১৬ সালে আবারও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে বিপুল ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে ২য় বারের মতো চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি রফিকুল ইসলাম মন্ডল।

২য় বারের মতো চেয়ারম্যান হিসেবে কাওরাইদ ইউনিয়নের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই এলাকার সার্বিক উন্নয়নমূলক কাজ বাস্তবায়ন করে চলেছেন। গত দুই বছরে কাওরাইদ ইউনিয়নে ব্যাপক উন্নয়নমূলক কাজ বাস্তবায়িত হয়েছে। এতে ইউনিয়নের সাধারণ জনগণের যাতয়াতে ব্যাপক সুবিধাসহ ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডে মসজিদ, স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন সড়কে বৈদ্যুতিক সোলার স্থাপন করে সকলের মন জুগিয়েছেন এ ইউপি চেয়ারম্যান।

তার অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে পাল্টে গেছে ইউনিয়নের চিত্র। গত দুই বছরে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের মধ্যে কাবিখা, কাবিটা, অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচি, টিআর, বিশেষ বরাদ্দের প্রকল্প ও লোকাল গর্ভামেন্ট সার্পোট প্রজেক্ট (এলজি এসপি)-৩ প্রকল্প দিয়ে ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডে উন্নয়নমূলক কাজ বাস্তবায়ন করা হয়। এছাড়া এ ইউনিয়ন পরিষদ থেকে অসহায়, দরিদ্ররা বিভিন্ন নাগরিক সুবিধা পাচ্ছেন।
এর মধ্যে ভিজিডি কার্ড পাচ্ছেন ২৬১ জন, বি জিএফ কার্ড পাচ্ছেন ৪১৭০ জন, হত দরিদ্র কার্ড পাচ্ছেন ২৮৪৮ জন, বিধবা ভাতা ২২৬ জন, বয়স্ক ভাতা ১০০১ জন, প্রতিবন্ধী ভাতা ২৩৯ জন, মাতৃকালীন ভাতা ১৩০ জন ।
এছাড়াও ইউনিয়ন পরিষদ ডিজিটাল তথ্য সেন্টার থেকে সব ধরনের ডিজিটাল সুবিধা পাচ্ছে এলাকার সাধারণ জনগণ। প্রত্যেক অর্থবছরে যে উন্নয়ন বাজেট ঘোষণা করা হয় তার প্রায় ৮০ ভাগই পূরণ হয়।

ইউনিয়ন পরিষদের সার্বিক উন্নয়ন বাস্তবায়ন নিয়ে কথা হয় চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম মন্ডলের সাথে। আলাপকালে তিনি শ্রীপুর বার্তাকে বলেন, শুধু আমার ইউনিয়ন নয় দেশে সবগুলো ইউনিয়নেই ব্যাপক উন্নয়ন মূলক কাজ বাস্তবায়ন হয়েছে। দেশে প্রত্যান্ত অঞ্চলে যে উন্নয়ন হয়েছে তা কেবল মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কারণেই হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, গাজীপুর-৩ আসনের ৬বারের সফল সংসদ সদস্য এ্যাডভোকেট মো. রহমত আলী শ্রীপুর উপজেলায় দৃশ্যমান ব্যাপক উন্নয়নমূলক কাজ বাস্তবায়ন করেছেন। তার উন্নয়নমূলক কাজ গুলো সাধারণ জনগণের কাছে তুলে ধরতে সাংসদপুত্র জামিল হাসান দুর্জয়ের নেতৃত্বে ব্যাপকভাবে গণসংযোগ, বিল বোর্ড, লিফলেট বিতরণ ও প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছি। তার জনপ্রিয়তা ও উন্নয়নমূলক কাজ বাস্তবায়ন করায় জাতীয় নির্বাচনে গাজীপুর-৩ আসনের অভিভাবক রহমত আলী কোন কারণে মনোনয়ন না চাইলে নৌকার মাঝি তার ছেলে জামিল হাসান দুর্জয় হবেন বলে তিনি আশাবাদী।

তিনি আরো বলেন, ২০১৬ সালে ইউপি নির্বাচনে জামিল হাসান দুর্জয়ের নেতৃত্বে উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে নৌকা মার্কা জয়ী হন।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলেই কেবল দেশে উন্নয়ন হয়। দেশে এ উন্নয়নের ধারাবাহিকতাকে ধরে রাখতে হলে সামনে আবারও নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আবারও ক্ষমতায় আনতে হবে।

রফিকুল ইসলাম মন্ডল আরো বলেন, মা-বাবাকে হারিয়ে এখন কাওরাইদের জনগণই আমার অভিভাবক। আমার জীবনে কোন চাওয়া-পাওয়া নেই। হারাবারও কিছু নেই। একটাই চাওয়া জনগণের মাঝে ছিলাম, আছি এবং থাকতে চাই জীবনের শেষ দিনটি পর্যন্ত।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here