প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে ‘স্বপ্নের ঠিকানা’ পাচ্ছে ১৩০ পরিবার

0
199

শ্রীপুর বার্তা ডেস্ক

পটুয়াখালীর কলাপাড়ার ১৩০টি পরিবার পাচ্ছে স্বপ্নের ঠিকানা। পায়রা ১৩২০ মেগাওয়াট তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভূমি অধিগ্রহণের ফলে জমিসহ বসতভিটা হারিয়ে মানবেতর জীবন যাপনকারী ক্ষতিগ্রস্থ এসব পরিবারের দীর্ঘদিনের কস্টের  অবসান হচ্ছে । ২৭ অক্টেবর আনুষ্ঠানিকভাবে এসব পরিবারের হাতে পাশ্চত্য দেশের আদলে তৈরি আধুনিক উপশহর ‘স্বপ্নের ঠিকানা’র চাবি তুলে দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

পটুয়াখালীর কলাপাড়ার নিশানবাড়িয়ায় পায়রা ১৩২০ মেগাওয়াট তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য এক হাজার একর ভূমি অধিগ্রহণের ফলে ১৩০টি পরিবার হারায় বসতভিটা। ক্ষতিগ্রস্থ এসব পরিবারের পুর্নবাসনে প্লান্টের পাশেই ১৬.২২ একর জমির উপড় গড়ে তোলা হয়েছে একটি আধুনিক উপশহর। সব ধরনের সুযোগ সুবিধা সম্বলিত পশ্চিমাদেশের আধুনিক শহরের আদলে তৈরি এ স্বপ্নের ঠিকানা। দু’টি ডিজাইনে করা হয়েছে এর সেমিপাকা ঘরগুলো। যেসব পরিবারের ২০ শতকের বেশি জমির বসতি নষ্ট হয়েছে তাদের জন্য সাড়ে সাত শতক জমিতে ১২ শ’ বর্গফুট আয়তনের ৮২টি এবং যাদের কম ক্ষতি হয়েছে তাদের জন্য সাড়ে পাঁচ শতক জমিতে এক হাজার বর্গফুট আয়তনের ৪৮টি ঘর করা হয়েছে। প্রত্যেকটি ঘরে ১৫ দশমিক সাত ফুট আয়তনে বাথরুমসহ একটি মাস্টার বেডরুম, দুইটি ১৫ফুট আয়তনের বেডরুম, ১০ দশমিক চার ফুট আয়তনের একটি ডাইনিংরুম, ১২ দশমিক দুই ফুটের রান্না ঘর ও একটি কমন বাথরুম রয়েছে।

প্রত্যেকটি ঘরের সামনেই থাকছে খালি জায়গা। যেখানে সবজির আবাদ কিংবা গবাদিপশুসহ হাঁস-মুরগি পালনের সুযোগ থাকছে। রয়েছে ৩৬ হাজার ৯২৯ এবং ২৪ হাজার ৫৫৪ বর্গফুট আয়তনের দুটি পুকুর। নিরাপদ পানির জন্য ৪৮টি গভীর নলকূপ। ২৩ শতক জমিতে আধুনিক দ্বিতল মসজিদ। ৪০০ বর্গমিটার আয়তনের দ্বিতল কমিউনিটি সেন্টার। যার নিচতলায় থাকছে ক্লিনিক। রাখা হয়েছে খেলার মাঠ, একটি শপিং সেন্টার, ঈদ-গাঁ মাঠ, নির্দিষ্ট কবরস্থান। একটি স্কুল ভবন। যেখানে টেকনিক্যাল শাখার অগ্রাধিকার থাকছে। ভেতরের পানি নিষ্কাশনের সাড়ে চার কি.মি. ড্রেনসহ ভেতরের ১২ ফুট প্রস্থ দুই কি.মি. পাকা সড়ক। এনডিএ সূত্র জানায়, এখান থেকে উৎপাদিত প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ বিক্রি থেকে দশমিক তিন পয়সা ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের জীবনমানের উন্নয়নে ব্যয় করা হবে।

২০১৬ সালে জমি অধিগ্রহনের পর থেকেই বেড়িবাধের স্লোপে মানবেতর জীবন যাপনকারী করছে ক্ষতিগ্রস্থ ১৩০টি পরিবার। আবাসনের ঘর ও পরিবেশ দেখে অত্যন্ত খুশি ক্ষতিগ্রস্থ এসব পরিবার এখন পূর্নবাসন পল্লীতে বসবাসের স্বপ্নে বিভোর। তবে এর পাশাপাশি প্রতি পরিবার থেকে অন্তত একজনের কর্মসংস্থানের সুযোগ দাবি তাদের। ধানখালী ইউপি’র সাবেক মেম্বর ফিরোজ তালুকদার বলেন, সপ্নের ঠিকানা একেবারে সপ্নের মতই। ধানখালী ইউনিয়নে এমন সুন্দর একটি দৃষ্টিনন্দন নগরী গড়ে উঠবে ভাবেনি কেউ।

নর্থ ওয়েস্ট পাওয়ার ডেভলপমেন্ট কোম্পানী লি. উপ-সহকারী প্রকৌশলী শিপন আলী জানান, পুনর্বাসন পল্লীর নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করে ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।

পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক মতিউল ইসলাম চৌধুরী বলেন, পটুয়াখালীতে চলমান উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের আওতায় অনেক ভূমি অধিগ্রহণ করা হচ্ছে। এতে ক্ষতিগ্রস্থরা যাতে শঙ্কিত না হয় এজন্য এ প্রকল্পটি মাইল ফলক হয়ে থাকবে।

বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রনালয়ের বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব ড. আহমদ কায়কাউস জানান, ক্ষতিগ্রস্থদের জমি ও ঘরের জন্য টাকা দেয়া হয়েছে। গৃহহীনদের জন্য আবাসন তৈরি করা হয়েছে। এছাড়াও এ প্রকল্পের মধ্যে একটি স্কুল রয়েছে যেখানে এলাকার আগ্রহীদের কারিগরি প্রশিক্ষণ প্রদান ও বিভিন্ন ভাষা শেখানো হবে যাতে করে বিভিন্ন দেশে দক্ষ জনশক্তি রপ্তানী করা সম্ভব হবে। এমনভাবে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্থরা নিজেরাই নিজেদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে নিতে পারবে।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here