শ্রীপুরে সরকারী জায়গা দখল করে দোকান-ঘর নির্মাণের অভিযোগ

0
213
বরমী ইউনিয়নের মুক্তিযোদ্ধা রহমত আলী বোট ঘাটে সরকারী জমি দখল করে দোকান-ঘর নিমার্ণ করা হচ্ছে। ছবি শ্রীপুর বার্তা

শ্রীপুর বার্তা ডেস্ক

গাজীপুরের শ্রীপুরে শীতলক্ষ্যা নদীর পাশে মুক্তিযোদ্ধা রহমত আলী বোট ঘাটে সরকারী খাস জায়গা অবৈধভাবে দখল করে দোকান-ঘর নির্মাণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযুক্ত শওকত আলী মৃর্ধা শ্রীপুর উপজেলা যুব উন্নয়নের সহকারী কর্মকর্তা ও বরমী বাজার ইজারাদার।

এ ঘটনায়  বরমী বাজারের সাধারণ জনগণ তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।

জানা জায়, কিছুদিন আগে অবৈধভাবে দোকান-ঘর নির্মাণ করতে গেলে সাধারণ জনগণের তুপের মুখে পড়ে ফিরে যান শওকত আলী মৃর্ধা । পূর্ণরায় আবারও দখল করতে গেলে আবারও তুপের মুখে পড়েন তিনি। এ নিয়ে বরমী বাজারে সাধারণ জনগণের মাঝে অসন্তোষ বিরাজ করছে। দখলদারী বন্ধ না হলে যে কোন সময় শওকত আলী মৃর্ধার সাথে ঘটতে পারে অনাকাঙ্খিত ঘটনা!

এলাকাবাসী ও স্থানীয়রা জানায়, শ্রীপুর উপজেলার যুব উন্নয়নের সহকারী কর্মকর্তা ও বরমী বাজার ইজারাদার স্থানীয় শওকত আলী মৃর্ধা প্রভাবশালী হওয়ায় কতিপয় লোকজনকে ম্যানেজ করে এর আগেও এ ঘাটের বিভিন্ন অংশ দখল করে দোকান-ঘর নির্মাণ করে রেখেছেন। ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে একের পর এক জায়গা দখল করছে। কেউ কিছু বললে প্রশাসন দিয়ে হয়রানির হুমকি প্রদান করে। এদিকে প্রশাসনের সঠিক নজরদারী না থাকার ফলে সরকারী জমি গুলো দখল হয়ে যাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় বাবুল মোল্লা জানান, কিছু দিন আগে এ ঘাটের সিঁড়ি ভেঙে শওকত আলী মৃর্ধা ও তার লোকজন মিলে দোকান-ঘর নির্মাণ করতে আসলে আমরা বাঁধা দিয়ে থাকি । পরে তারা ঘাট থেকে চলে যায়। সোমবার সকালে তারা আবারও এসে ঘর নির্মাণের কাজ শুরু করে । তিনি আরো জানায়, বরমীর ঐতিহ্য হচ্ছে মুক্তিযোদ্ধা রহমত আলী বোট ঘাট। এ ঘাট আমরা নষ্ট হতে দেব না। আমাদের জীবন থাকতে ঘাটের সরকারী জায়গা দখল করে দোকান-ঘর নির্মাণ করতে দেয়া হবে না।

বরমী ইউপি চেয়ারম্যান শামছুল হক বাদল সরকার জানান, বরমীর ঐতিহ্য মুক্তিযোদ্ধা রহমত আলী বোট ঘাট। স্থানীয় এমপি মহোদয়ের নামে এ ঘাট। আমি আ’লীগের মনোনীত স্থানীয় সরকারের একজন চেয়ারম্যান। সেই হিসেবে বরমীতে সরকারের জায়গা অবৈধভাবে কেউ দখল করলে বাঁধা দেওয়ার দায়িত্ব আমারই। তিনি আরো জানান, যেহেতু স্থানীয় এমপি এ্যাড. রহমত আলীর নামে এ ঘাট। শওকত আলী মৃর্ধা একজন সরকারী লোক হয়ে অবৈধভাবে সরকারী জমি দখল করে কিভাবে দোকান-ঘর নির্মাণ করে? আমি মনে করি এ ঘাটের জায়গা দখল করা মানে এমপি মহোদয়কে অসম্মান করা। আ’লীগকে অসম্মান করা। আমি দলীয় চেয়ারম্যান হিসেবে এমন ঘটনা মেনে নিতে পারছিনা। আমি বেঁচে থাকতে তা হতে দেব না। সরকারী জায়গা দখলমুক্ত করতে কর্তৃপক্ষের সু-দৃষ্টি কামনা করছি।

শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেহেনা আক্তার জানান, এ বিষেয়ে মৌখিক অভিযোগ পেয়েছি। সরেজমিন তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তিনি আরো জানান, ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে কেউ সরকারী জায়গা অবৈধভাবে দখল করতে পারবে না।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here