ট্রফিটা হাতে নিতেই হবে

0
50

লিওনেল মেসি

আগের বিশ্বকাপে মারাকানার পরাজয়টা এখনও কষ্ট দেয় আমাকে। চাইলেও ভুলতে পারব না। ক্ষতটা দগদগে। আসলে স্বপ্নের এত কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েও জিততে পারিনি। আমরা সেটা মেনে নিয়েছি এই ভেবে যে, সেরা দল সবসময় জিততে পারে না। আর পাঁচজন আর্জেন্টিনার মতোই সে দিন খুব কেঁদেছিলাম।

যন্ত্রণাটা এখনও বয়ে বেড়াচ্ছি।

আমার দুর্ভাগ্য আর্জেন্টিনার হয়ে এখনও কিছু জিততে পারিনি। আর ১৯৮৬’র পর আমরাও বিশ্বকাপ জিততে পারিনি। এবার আমাদের ওপর প্রত্যাশা একটু বেশিই। এতে ভুল কিছু নেই। সত্যি বলতে কী, সব আর্জেন্টিনার মতো আমিও চাই বিশ্বকাপ ট্রফিটা হাতে নিতে। দেশকে ট্রফিটা দিতে। আমার ছোটবেলার স্বপ্ন এটাই। ফাইনাল খেলা আর ট্রফিটা হাতে নেওয়া। এবারও ফাইনালের লক্ষ্যেই এগোব। তবে এবার ফাইনালের ফলটা বদলে ফেলতে চাই। হয়তো আমাদের প্রজন্মের আর্জেন্টিনার ফুটবলারদের এটাই শেষ সুযোগ ট্রফিটা হাতে নেওয়ার।

স্বপ্ন পূরণের চাপ খুব একটা নেই। আসলে আপনি যদি আর্জেন্টাইন হন আর ফুটবল ভালোবাসেন, তাহলে ফুটবলের সবচেয়ে বড় পুরস্কারটা অবশ্যই পেতে চাইবেন। এটাও জানি, বিশ্বকাপ জেতা অনেক বড় চ্যালেঞ্জ। কঠিনও। সেটা তো গতবার আপনারা দেখেছেন। তবে এবার সেই চ্যালেঞ্জটা নিতে চাই। আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ খুব দরকার। আমিও চাই বিশ্বকাপ। প্রত্যাশা আছে বলে, স্বপ্নপূরণের চাপ তো একটু থাকবেই।

ফুটবলের বড় দেশগুলোই ফেভারিট। ইউরোপে বিশ্বকাপ, তাই জার্মানি ট্রফি ধরে রাখার মিশনে নামবে। ব্রাজিল, স্পেন, ফ্রান্স রীতিমতো আত্মবিশ্বাস ও ব্যক্তিগত প্রতিভায় পরিপূর্ণ একটা দল নিয়ে খেলতে নামছে। বেলজিয়ামকেও ভুলে গেলে চলবে না। বাকিদের সঙ্গে ওদের নাম একইভাবে উচ্চারিত হয় না। স্পেন দুর্দান্ত দল। বাছাইপর্বে ব্রাজিল, পর্তুগাল ও ফ্রান্স দারুণ খেলেছে। তাদেরও বিশ্বকাপ জয়ের ভালো সম্ভাবনা আছে।

আর্জেন্টিনার গ্রুপটা একটু কঠিনই বলা চলে। তবে এসব নিয়ে আমি ভাবছি না। কারণ বিশ্বকাপ জিততে হলে আপনাকে কঠিন দলের বিপক্ষে খেলতেই হবে। আর সেরা টুর্নামেন্টে সেরা দলের সঙ্গে লড়তে গেলে সেরাটাই দিতে হয়। দেশের হয়ে বিশ্বকাপে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পায় সেরারা। তাই এখানে সব ম্যাচই কঠিন। তবে আমরা তৈরি।

রাশিয়ার টিকিট পেতে আমাদের অনেক সমস্যায় পড়তে হয়েছিল। ইকুয়েডরের বিপক্ষে বাছাইপর্বের শেষ ম্যাচটা আমাদের জিততেই হতো। কিন্তু শুরুতে পিছিয়ে পড়েছিলাম। এরপর সবকিছুই পরিকল্পনা মতোই এগিয়েছিল। আমিও গোল করেছিলাম। সেদিন বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করার পর সবাই খুব আনন্দ পেয়েছিলাম। আমাদের ঘুরে দাঁড়ানোটা চমৎকার ছিল এবং পুরো বিষয়টা আমাদের জন্য খুবই ইতিবাচক হয়েছে। আমরা একটা ভালো দলে পরিণত হয়েছি। তবে এটা বিশ্বকাপ। খুব কঠিন টুর্নামেন্ট এটি আর এখানে যে কোনো কিছুই ঘটতে পারে। বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো ভিন্ন। চারপাশের আবহটাই একে অন্যান্য প্রতিযোগিতা থেকে ভিন্ন করে তোলে। সূত্র:সমকাল

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here