নতুন দিনের অপেক্ষায় শিক্ষা খাত

0
63

শ্রীপুর বার্তা ডেস্ক

শিক্ষার প্রসারের মাধ্যমে দেশকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে  শিক্ষা খাতে  বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৫৩ হাজার ৫৪ কোটি টাকা যা এবারের বাজেটের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বরাদ্দ । প্রস্তাবনা  অনুযায়ী, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ২২ হাজার ৪৬৬ কোটি টাকা এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ২৪ হাজার ৮৮৮ কোটি টাকা ।

এছাড়াও মাদ্রাসা শিক্ষা এবং কারিগরি শিক্ষা বিভাগের জন্য বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে ৫ হাজার ৭০০ কোটি টাকা। ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই দেশের শিক্ষা খাতের মান বৃদ্ধি এবং আধুনিকায়নের জন্য নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছে সরকার । প্রাথমিক পর্যায়ে শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধির লক্ষ্যে ৬৫ হাজার শ্রেণিকক্ষ, ১০ হাজার ৫০০টি শিক্ষক কক্ষ, ৫ হাজার বিদ্যালয়ে সীমানা প্রাচীর নির্মাণসহ ৩০ হাজার খেলার সামগ্রী বিতরণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এছাড়াও প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সব ইউনিয়নে প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে আইসিটিভিত্তিক কমিউনিটি লার্নিং সেন্টার ।

নারীশিক্ষার প্রসারে চারটি বিভাগীয় শহরে চারটি মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটসহ প্রতিটি বিভাগীয় শহরে গড়ে তোলা হবে একটি করে বালিকা কারিগরি বিদ্যালয়। পাশাপাশি দেশজুড়ে ৬৫৩টি মাদ্রাসায় স্থাপিত হবে মাল্টিমিডিয়া শ্রেণিকক্ষ । পশ্চাৎপদতা কাটিয়ে উন্নতির পথে এগিয়ে যেতে একটি দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা পালন করে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধি এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নে বরাদ্দকৃত এই অর্থ পালন করবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা এমনটিই মনে করছেন শিক্ষাবিদরা ।

 

প্রস্তাবিত বাজেটে সর্বোচ্চ বরাদ্দ পরিবহন খাতে

একটি দেশের জীবনমান এবং অর্থনৈতিক উৎকর্ষ অনেকাংশে নির্ভর করে সে দেশের  যোগাযোগ ব্যবস্থার উপর।  ক্ষমতাগ্রহণের পর থেকেই দেশের যোগাযোগ অবকাঠামোর উন্নয়নের উপর সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে আসছে সরকার ।

তারই ধারাবাহিকতায়  ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে  পরিবহন ও যোগাযোগ খাতের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৫৩ হাজার ৮১ কোটি টাকা যা এবারের বাজেটে খাতভিত্তিক সর্বোচ্চ বরাদ্দ। ২০০৮-০৯ হতে ২০১৬‑১৭ অর্থবছর পর্যন্ত যোগাযোগ খাতে দেশ দেখেছে অভূতপূর্ব উন্নয়ন । মেয়র মোহাম্মদ হানিফ ফ্লাইওভার, বিশ্বরোড-বিমানবন্দর সংযোগস্থল ফ্লাইওভার, মিরপুর হতে বিমানবন্দর সড়ক ফ্লাইওভার, বহদ্দারহাট ফ্লাইওভার, হাতিরঝিল প্রকল্পসহ বেশ কিছু মাইলফলকের সাক্ষী হয়েছে দেশ । নিজস্ব অর্থায়নে গড়ে তোলা হচ্ছে পদ্মা সেতুর মতো মেগা  প্রকল্প।

ঢাকাবাসীকে  যানজটের হাত থেকে রক্ষা করতে গড়ে তোলা হচ্ছে মেট্রোরেল। এছাড়াও রেলপথ বিভাগকে স্বতন্ত্র মন্ত্রণালয়ে রূপান্তরের পাশাপাশি এ পর্যন্ত তৈরী  করা হয়েছে ২৯৮ কিলোমিটার নতুন রেলপথ। ঢাকা-চট্টগ্রাম করিডোরের  ২৪৯ কিলোমিটার ডাবল লাইনে উন্নীত করার হয়েছে ।২৭৬টি রেলসেতু ও ৮২টি স্টেশন বিল্ডিং নির্মাণসহ ৬২টি বন্ধ রেল স্টেশন চালু হয়েছে । পাশাপাশি মোংলা সমুদ্র-বন্দর এবং বেনাপোল, ভোমরা, নাকুগাঁও স্থলবন্দরসহ  দেশের অন্যান্য সমুদ্র-নৌ-স্থল বন্দরসমূহে পড়েছে আধুনিকায়নের ছোঁয়া । সড়ক, রেল ও নৌপথে  সরকারের সমন্বিত উন্নয়নে একদিকে যেমন জনসাধারণের যাতায়াত নির্বিঘ্ন এবং নিরাপদ হয়েছে  তেমনি রপ্তানি ও অভ্যন্তরীণ বাণিজ্যের পথ সহজতর হয়েছে।

প্রস্তাবিত ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেট দেশের পরিবহন এবং যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরো সংহত এবং শক্তিশালী করতে সাহায্য করবে এমনটিই মনে করে দেশের মানুষ।

শ্রীপুর বার্তা/তযু

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here