মাদকের পর দুর্নীতির বিরুদ্ধে সর্বাত্মক যুদ্ধ!

0
147

শ্রীপুর বার্তা ডেস্ক

মাদকের করাল গ্রাস থেকে যুব সমাজ তথা জাতিকে রক্ষার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে মাদকের বিরুদ্ধে পরিচালিত বিশেষ অভিযান নিয়ে সারা দেশের মানুষ যখন স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছে এবং এর ফল পেতে শুরু করেছে- সেই একই ধারাবাহিকতায় মাদকের মতো ভয়াবহ আরেকটি ক্ষত দুর্নীতি’র বিরুদ্ধেও সর্বাত্মক যুদ্ধ ঘোষণা করা হবে বলে জানা গেছে।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা হলো, সমাজের ক্ষতগুলোর বিরুদ্ধে সর্বাত্মক অভিযান। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আমরা জাতির পিতার হত্যার বিচার করেছি, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করেছি, জঙ্গিবাদ দমন করেছি এখন মাদকমুক্ত বাংলাদেশ করবো। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, মাদকের পর প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আওয়ামী লীগ দুর্নীতি বিরোধী অভিযানে জোর দেবে। প্রধানমন্ত্রী নিজেই বলেছেন, ‘মাদকের পর দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হবে।’ইতিমধ্যে তার কিছু দৃশ্যমান ইঙ্গিতও পাওয়া গেছে।

এ ব্যাপারে দুর্নীতি দমন কমিশনকে স্বাধীনভাবে দল-মত বাছ-বিচার না করে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।এদিকে মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যেমন নামধারী কিছু সুশীল ব্যক্তি ব্যতীত সারা দেশের মানুষ অকুণ্ঠ সমর্থন জানিয়েছে তেমনি দুর্নীতির বিরুদ্ধে সর্বাত্মক যুদ্ধেও প্রধানমন্ত্রীর আহবানে সাড়া দিয়ে সারা দেশের মানুষ দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে দাঁড়াবে বলে আশা করছেন সরকারের সংশ্লিষ্ট মহল।

 

সুস্থ্য জীবন ও পরকালীন মুক্তির অন্তরায় যখন মাদক

ইসলাম মানবজাতির বুদ্ধিবৃত্তিক চিন্তা-চেতনা ও ধর্মীয় আকিদা-বিশ্বাস থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত, সামাজিক, পারিবারিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, ব্যবহারিক ও সাংস্কৃতিক জীবনের সর্বক্ষেত্রে সুষ্ঠু ও পরিপূর্ণ গ্রহণযোগ্য সমাধান দিয়েছে। যেহেতু মাদকাসক্তি ও নেশাজাতীয় দ্রব্য মানবসমাজের জন্য মারাত্মক সর্বনাশ ও ধ্বংস ডেকে আনে, তাই ইসলামি শরিয়তে মাদক চিরতরে হারাম ও নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে।

ইসলামের মৌলিক পাঁচটি নিষিদ্ধ কাজের অন্যতম হলো নেশা বা মাদকদ্রব্য। এর মধ্যে মাদক ছাড়া অন্য চারটি অপরাধ নিজের নিয়ন্ত্রণে থাকে; অর্থাৎ ইচ্ছা করলে তা ছাড়া যায়। কিন্তু মাদক গ্রহণ এমন এক অপরাধ, যা একপর্যায়ে নিজের নিয়ন্ত্রণে থাকে না; বরং সে নিজেই মাদক বা নেশার নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। ফলে চাইলেই যখন-তখন সেখান থেকে বের হয়ে আসা যায় না; অর্থাৎ সময়ে সে নেশাকে ছাড়তে চাইলেও নেশা তাকে সহজে ছাড়ে না বা ছাড়তে চায় না। মূল পাঁচটি নিষেধাজ্ঞার চারটি অপরাধ পরিত্যাগ করে তওবা করে পবিত্র জীবনযাপন করা সম্ভব; কিন্তু নেশা বা মাদকাসক্ত ব্যক্তি তওবা করারও সুযোগ পায় না এবং মাদক না ছেড়ে তওবা করলেও তা কবুল হয় না। মূল পাঁচটি নিষিদ্ধ কাজের চারটি হলো স্বতন্ত্র বা একক অপরাধ; কিন্তু মাদক হলো অপরাধের আকর।

এ সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, হে মুমিনগণ! নিশ্চয়ই মদ, জুয়া, ইত্যাদি হচ্ছে ঘৃণ্য, শয়তানের কারসাজি। সুতরাং তোমরা এসব বর্জন করো, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পারো। [সুরা-আল মায়িদা, আয়াত-৯০] মাদক হলো এমন এক প্রকার অবৈধ ও বর্জনীয় বস্তু, যা গ্রহণ বা সেবন করলে আসক্ত ব্যক্তির এক বা একাধিক কার্যকলাপের অস্বাভাবিক পরিবর্তন বা বিকৃতি ঘটতে পারে। নেশা ও মাদকাসক্তির ভয়াবহতা থেকে মানবসমাজকে মুক্ত রাখার জন্য ইসলামের কঠোর মূলনীতি জারি করেন রাসুল [সা.]। মাদক এমনই বস্তু যে, উৎপাদন, বিপণন, পরিবেশন ও গ্রহণের যেকোন প্রান্তের সাথে সংশ্লিষ্ট থাকা আল্লাহ ও তার রাসূলের অভিশাপের কারণ। আর এ-তো বলাই বাহুল্য যে, আল্লাহ ও তার রাসূলের অভিশাপ যার উপর বর্ষিত হয় তার জীবন কখনো শান্তির হতে পারে না।

নবী করিম (সা:) বলেছেন- মাদকের উপর অভিশাপ; মাদক পানকারীর উপর অভিশাপ, পরিবেশনকারীর উপর অভিশাপ, বিক্রয়কারীর উপর অভিশাপ, ক্রয়কারীর উপর অভিশাপ; যে মাদক নিংড়ায় তার উপর অভিশাপ, বহনকারীর উপর অভিশাপ, যার কাছে বহন করে নেওয়া হয় তার উপর অভিশাপ; আর যে মাদক বিক্রয়লদ্ধ অর্থ ভোগ করে তার উপর অভিশাপ। {সুনানে আবু দাউদ হাদিস ৩৬৭৬; জামে তিরমিযী হাদিস: ১২৯৫। ইসলামি দৃষ্টিকোণে মাদক ও মাদকাসক্তির নানাবিধ কুফল এবং ভয়াবহ পরিণাম তো রয়েছেই, পাশাপাশি সামাজিক এবং ব্যক্তিগত পর্যায়েও মাদকের ছোবল ভয়ংকর। যেকোন প্রকার মাদকদ্রব্য যা নেশা সৃষ্টি করে, সুস্থ মস্তিষ্ক বিকৃতি ঘটায় এবং জ্ঞান ও স্মৃতিশক্তি লোপ করে দেয়, তা হারাম বা নিষিদ্ধ, তা প্রাকৃতিক হোক যেমন- মদ, তাড়ি, আফিম, গাঁজা, চরস, হাশিশ ইত্যাদি অথবা রাসায়নিক হোক যেমন- হেরোইন, মরফিন, কোকেন, প্যাথেডিন ইত্যাদি। মাদক মানুষের শরীরে বিভিন্ন ক্ষতি সাধন করে থাকে।

নেশাদ্রব্য গ্রহণের ফলে ধীরে ধীরে মানুষের হজম শক্তি বিনষ্ট হয়, খাদ্যস্পৃহা কমে যায়, চেহারা বিকৃত হয়ে পড়ে, স্নায়ু দুর্বল হয়ে যায়, শারীরিক ক্ষমতা লোপ পায়। আবার এমন অনেক মাদকদ্রব্য আছে, যা সম্পূর্ণরূপে কিডনী বিনষ্ট করে দেয়। মস্তিষ্কের লক্ষ লক্ষ সেল ধ্বংস করে ফেলে, যেটা কোনো চিকিৎসার মাধ্যমেই সারানো সম্ভব নয়। মাদক সেবনের ফলে লিভার সিরোসিস রোগের সৃষ্টি হয়, যার চিকিৎসা দুরূহ। তাই প্রত্যেকটি মানুষের উচিত তার পার্থিব জীবনকে সুন্দর ও সুস্থ্য রাখতে এবং একইসাথে পরকালের কঠোর শাস্তি থেকে নিজেকে রক্ষা করতে মাদকের সাথে সকল প্রকার সংশ্রব মুক্ত থাকা এবং অন্যকেও তা থেকে দূরে রাখতে সহযোগিতা করা। কেননা পরকালীন মুক্তি ও পার্থিব জীবনে সুন্দর-সুস্থ্যভাবে বেঁচে থাকার অন্যতম প্রধান অন্তরায় হলো মাদক।

শ্রীপুর বার্তা/তযু

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here